সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অভিশপ্ত উত্তরাধিকার

শ্রদ্ধা বিয়ে করা এক তরণী পাঁচ মাসের এক গর্ভবতী। তার স্বামী আরাফ ব্যাংকার চাকরি আর বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।কিন্তু শ্রদ্ধার মধ্যে এটি স্বাভাবিক । সে মাঝে মধ্যেই অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। প্রতিবারই তার স্বপ্নে একটি অন্ধকারে পুরনো বাড়ি দেখা যায়। যেখানে সে একা বাড়ির করিডোর ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে অনুভব করে কে তাকে অনুসরণ করছে, কিন্তু ফিরে তাকালে কাউকে দেখতে পায় না। গর্ভ অবস্থায় সে তার নিজের শরীরের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। কিন্তু স্বপ্নগুলো ক্রমশ তার জীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। আরাফ একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই বলল শ্রদ্ধা তোমার জন্য একটি চমক আছে অফিস থেকে ছুটি পেলাম চলো তোমার জন্য একটু হাওয়া বদল করা যাক। একটা পুরনো বাড়ি আছে আমাদের গ্রামে দিকে।অনেক আগে আমার দাদু কিনেছিলেন। আমরা কয়েকদিন ওখানে কাটিয়ে আসতে পারি। শ্রদ্ধার ভিতরে কিছুটা অস্তিত্ব তৈরি হলো কারণ তার সেই স্বপ্নের বাড়ির সঙ্গে আরাফের বর্ণনা অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে কিন্তু সে কিছু বলল না। (অদ্ভুত বাড়ি) গ্রামের বাড়ি পৌঁছানোর পর শ্রদ্ধা লক্ষ্য করল বাড়িটা একদমই তার স্বপ্নের মত। চারপাশে পুরনো আসবাশ পুরনো করিডর, এবং বিশাল এক লোহার দরজা এবং সব কিছুই তার স্বপ্নের সাথে মিলে যায় প্রথম রাতেই শ্রদ্ধা আবার সেই দুঃস্বপ্ন দেখে। তার এবার স্বপ্নটি পুরো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সে দেখে কেউ তার পিছনে হাঁটছে সে ভয় পেয়ে দৌড়াতে শুরু করে একটা ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করতেই দরজার ওপাশ থেকে জোরে কে ধাক্কা দেয়, শ্রদ্ধা চিৎকার করে উঠে পড়ে বাস্তবে সে চিৎকার দিয়ে উঠে পড়ে আরাফ উদ্দিগ্ন হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল তোমার কি হয়েছে আবার দুঃস্বপ্ন দেখেছো। শ্রদ্ধা তখনো কাঁপছে কিন্তু সে কিছু বলতে চাইলেও মুখ থেকে কোন কথা বেরলো না(পুরনো কাহিনী) পরের দিন সকালে বাড়ির পুরনো কক্ষগুলো দেখছিল একটি ঘরে একটি পুরনো ট্যাংক দেখে তার মনে কৌতূহল হল। প্যান্ট খুলে সে একটি পুরনো ডাইরি পেল ডাইরিটি আরাফের দাদুর ছিল। কিন্তু ডাইরিতে লেখা ছিল একটি ভিন্ন গল্প। ডাইরি পড়ে শ্রদ্ধা জানতে পারল এই বাড়িটিতে একটি নারী থাকতেন, যার নাম ছিল মিনা তিনি একজন গর্ভবতী ছিলেন কিন্তু তার স্বামী এক ভয়ঙ্কর ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে হত্যা করে। এরপর থেকেই বাড়িটিকে সবাই অশুভ মনে করে শ্রদ্ধার মনে সন্দেহ বাড়তে লাগলো আরাফ তাকে এখানে নিয়ে আসার কারন কি। আসল সত্য উদঘাটন, এক রাতে শ্রদ্ধা আবার সেই ভৌতিক স্বপ্ন দেখলো। কিন্তু এবার শেষ স্বপ্নে একটি চিঠি দেখতে পেল জিতে লেখা ছিল আমার সন্তানকে বাঁচাও শ্রদ্ধা পরের দিন সকালে আরাফকে কিছু না বলে বাড়ির পুরনো কাগজপত্র গুলো ঘাটতে শুরু করেএকপর্যায়ে সে একটি দলিল পেল।  যেখানে লেখা ছিল বাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আরাফের পরিবারে বিরোধ চলছিল তাকে এখানে আনার কি অন্য কোন কারণ আছে সে বুঝতে পারছিলো তার সন্তান যেন এই রহস্য সাথে জড়িত (aatanki Rath)  এক রাত শ্রদ্ধা হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখে আরাফ ঘরে নেই। সে তাকে খুঁজতে বের হয় এবং সে দেখে বাড়ির নিচতলার ঘরে কার সঙ্গে কথা বলছে। দরজার ফাঁক দিয়ে শ্রদ্ধা দেখলো আরাফ এক অদ্ভুত প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলছে শ্রদ্ধার মনে হল, সে ফুল শুনছে না, আরাফ বলছে আমার সন্তানকে কিছু করোনা তুমি যা চেয়েছিলে আমি তা দেব (সমাপ্তি)শ্রদ্ধা ঘরে ফিরে আসে কিছুক্ষণ পর আরাপ ফিরে এলো শ্রদ্ধা তার সামনে পুরো ব্যাপারটি তুলে ধরল আরা প্রথমে চুপ করে থাকে তারপর সে স্বীকার করে এই বাড়ির ইতিহাস তোমার জানার দরকার নেই আমি ভেবেছিলাম আমরা কয়েকদিন এখানে থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাড়িটির অভিশাপ এখনো আমাদের পিছু ছাড়েনি আরাফ বুঝতে পারে শ্রদ্ধা ও তার সন্তান এই বাড়ির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত তাড়াতাড়ি ঘড়ি বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় শ্রদ্ধা একবার পিছন দিকে তাকায় সে দেখে বাড়ির করিডোরে একটি ছায়া মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। মূর্তিটি ধীরে ধীরে মিলে যায় এরপর তারা আর সেই বাড়িতে কখনো ফিরে যায়নি তবে শ্রদ্ধার মনে এই দুঃস্বপ্ন মনে রয়ে  যায় আর তার সন্তান কি সত্তিকারের অভিশাপের সেই মুক্তি পেয়েছে (লেখক শ্রী বিশ্বজিৎ পাত্র)

 

/Biswajit patra

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কষ্টের গভীরতা: জীবনের শিক্ষা"

 জীবনের কষ্ট: এক অনিবার্য বাস্তবতা মানুষের জীবন কখনোই সমতল পথ নয়। এটি এক অসমান যাত্রা, যেখানে আনন্দের পাশাপাশি কষ্ট, হতাশা এবং দুঃখের মুহূর্তগুলো অনিবার্যভাবে উপস্থিত হয়। জীবনের কষ্ট আমাদের ভেঙে দেয়, কিন্তু সেই ভাঙনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শিক্ষা ও নতুন সম্ভাবনার বীজ। কষ্টের অভিজ্ঞতা আমাদের তৈরি করে, শক্তিশালী করে এবং জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।তার সাথে  কষ্টের ধরন ও উৎস জীবনের কষ্ট বিভিন্ন রূপে আমাদের সামনে আসে। এটি হতে পারে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, বা সামাজিক। যেমন: 1. শারীরিক কষ্ট: অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ফলে শারীরিক ব্যথা অনেকের জীবনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এটি শুধু শরীর নয়, মানসিক দিক থেকেও মানুষকে দুর্বল করে তোলে। 2. মানসিক কষ্ট: হতাশা, দুঃশ্চিন্তা বা প্রিয়জন হারানোর বেদনা মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে। একাকিত্ব বা মানসিক চাপ অনেকের জীবনে স্থায়ী দুঃখের কারণ হয়। 3. আর্থিক কষ্ট: দারিদ্র্য, ঋণগ্রস্ততা বা কর্মহীনতা মানুষকে তার জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে অক্ষম করে তোলে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের রূপ নিতে পারে। 4. সামাজিক কষ্ট: পরিবার বা সমাজের সঙ্গে সম্পর্...